কিডনি ও মূত্র রোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

ইউরিনারী সিস্টেমের রোগ ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য।

ইউরিনারী সিস্টেমের রোগ

ইউরিনারী সিস্টেম-এর রোগ লক্ষণ ও ৰাৰস্থাপনা

মূত্রতন্ত্রের রোগ বলতে মূত্রতন্ত্রের যে কোন অংশের (কিডনী, মূত্রবাহী নালী, মূত্রথলি, মূত্রনালী) সমস্যাকে বোঝায়।

 

মুত্রতন্ত্রের রোগের ক্ষেত্রে মুরোগ বিশেষজ্ঞ (ইউরোলজিস্ট) কিংবা কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ (নেফ্রলজিস্ট) অপ্রাপ্তিতে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সার্জারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

 

মূত্রতন্ত্রের রোগের সাধারণ কারণ

জীবানু; প্রধাণত ব্যকটেরিয়া, প্রোপ্রোটোজোয়া।

অনিয়ন্ত্রিত (সময়মত সঠিক চিকিৎসা না হওয়া) চর্মরোগ (স্ক্যাবিস), গলা ব্যাথা (টনসিলাইটিস)।

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস মেলাইটাস।

পানি কম পান করা।

ঔষধ: যেমন- বেদনা নাশক, স্টেরয়েড

পান-সুপারী সেবন

বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ। ইত্যাদি

 

মূত্রতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধ

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে (সাধারণত ১০-১২ গ্লাস)।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে। ( যেমন- টয়লেট পেপার ব্যবহার করতে হবে, সৌচকার্যের সঠিক নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।)

এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত বেদনা নাশক ঔষধ সেবন করা যাবে না। সম্ভব হলে এড়িয়ে চলতে হবে।

এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত স্টেরয়েড ঔষধ সেবন করা যাবে না।

প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত ঔষধ একটানা দীর্ঘদিন না খেয়ে ছয়মাস অন্তর অন্তর পুনরায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডায়বেটিস মেলাইটাস থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। v উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

পান-সুপারী -চুন-তামাক এড়িয়ে চলতে হবে।

রাসায়নিক পদার্থ এড়িয়ে চলতে হবে (যে সকল খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে বলে সন্দেহ হয় সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে)।

বছরে কমপক্ষে দুইবার কিডনী পরীক্ষা করাতে হবে।

 

মূত্রতন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ।

প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া

প্রস্রাব ধরে রাখতে অসমর্থ হওয়া ।

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

প্রস্রাব করতে সমস্যা।

পেটে বেদনা

কোমড় বেদনা।

উচ্চরক্তচাপ

হাতে, পায়ে, পেটে পানি আসা । ইত্যাদি

 

প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া

সাধারণ প্রস্রাবের বর্ণ খড়ের মত। কখনো কখনো তা গাঢ় হতে পারে। আবার লালচেও হতে পারে। প্রস্রাব লালচে হওয়া অর্থ প্রস্রাবের সাথে রক্ত বের হচ্ছে। এটি মারাত্নক সমস্যা। আবার পানি কম পান করা, জন্ডিস, বিভিন্ন ঔষধ ইত্যাদি কারণে প্রস্রাবের বর্ণ গাঢ় হতে পারে।

 

প্রাথমিক চিকিৎসা

এক গ্লাস পানিতে সামান্য লবণ ও এক – দুই চা চামচ পরিমান লেবুর রস মেশাতে হবে। এভাবে দিনে ৬-৮ গ্লাস লেবু পানি পান করতে হবে।

 

প্রস্রাবের জ্বালা পোড়া

সাধারণ সমস্যা। কম পানি পানি পান, ইনফেকশন ইত্যাদি কারণে এ সমস্যা হতে পারে। ইনফেকশনের কারণে হলে রোগীর জ্বর থাকতে পারে। ঘন ঘন প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া বিভিন্ন লুকায়িত রোগকে নির্দেশ করতে পারে।

 

প্রাথমিক চিকিৎসা

সাধারণ ব্যবস্থাপনা।

লেবুপানি শরবত পান করা: এক গ্লাস পানিতে সামান্য লবন ও এক – দুই চা চামচ পরিমান লেবুর রস মেশাতে হবে। এভাবে দিনে ৬-৮ গ্লাস লেবু পানি পান করতে হবে।

 

ঔষধ:

ক) এন্টিবায়োটিক

জেনেরিক: সিপ্রোপ্রোফ্লোক্সাসিন; (ciprofloxacin)

ব্র্যান্ড সিপ্রোপ্রোসিন (ciprocin) প্রস্তুতকারক স্কয়ার)

ডোজ: + প্রাপ্ত বয়স্ক (১৮বছরের উর্দ্ধে ) : ৫০০-৭৫০ মিগ্রা দিনে ২ বার কমপক্ষে ৭

দিন। ব্যাসিলারী আমাশয় এর ক্ষেত্রে ১ গ্রাম একক মাত্রা এর পর ৫০০

মিগ্রা দিনে দুইবার মোট ৭ দিন। / শিশুদের ক্ষেত্রে ; সর্বোচ্চ মাত্রা : ৫-১৫ মিগ্রা/কেজি, ১২-১৮: ২০ মিগ্রা

কেজি

বয়স ১-৩ বছর

গড় একক মাত্রা | ১২৫ মিগ্রা।

আধা চামচ দিনে দুইবার

৪-৬ বছর।

১৬০ মিগ্রা।

৭-৯ বছর

২৫০ মিগ্রা

এক চামচের তিনভাগের দুই ভাগ দিনে দুই বার। ১ চামচ বা একটি ২৫০ মিগ্রা ট্যাবলেট দিনে দুই বার।। প্রাপ্ত বয়স্কদের মাত্রা।

১০-১২ বছর।

 

এতে সমস্যার সমাধান না হলে ইউরোলজিস্ট কিংবা মেডিসিন/সার্জারী বিশেষজ্ঞ কিংবা এমবিবিএস চিকিৎসকের নিকট পেরণ করতে হবে ।

 

পেটে বেদনা।

মূত্র তন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে তলপেটে কিংবা পেটের পেছনের দিকে বেদনাই বেশি। অনুভুত হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে কোমড় বেদনা থাকতে পারে। মূত্র তন্ত্রের যে কোন স্থানে (কিডনী, মূত্রবাহী, মূত্রথলি, মূত্রনালী) টিউমার, পাথর, ইনফেকশন ইত্যাদি, কারণে এই বেদনার সৃষ্টি হতে পারে।

 

প্রাথমিক চিকিৎসা

সাধারণ ব্যবস্থাপনা

রোগীকে আরামদায়ক অবস্থায় শুইয়ে দিতে হবে। মুখে কোন খাবার না দিয়ে শুধু সামান্য পানি পান করতে দিতে হবে। পানির বদলে গ্লুকোজের শরবত দেয়া যায়।

রোগীর পালস, বিপি, শ্বাস, তাপমাত্রা দেখতে হবে।

ব্যথা পুরাতন হলে সংশ্লিষ্ট প্রেসক্রিপশন দেখতে হবে।

 

ঔষধ: প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য

১) এন্টি আলসারেন্ট

জেনেরিক: ওমিপ্রাজল (omeprazole) ;

ব্রান্ড- স্যাসেট: লোসেকটিল (পাউডার আকারে) (Losectil) প্রস্তুতকারক: এসকেএফ ডোজ: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে একটি আধা কাপ পানির সাথে মিশিয়ে খাইয়ে দিতে হবে।

২) এন্টি স্পাজমোডিক

জেনেরিক: টাইমোনিয়াম মিথাইল সালফেট (tiemonium- methyle sulphate);

ব্রান্ড-এলজিন-৫০ (algin-50) প্রস্ততকারক: রেনাটা।

৪ ডোজ ২ ট্যাবলেট একসাথে।

৩) এনালজেসিক :যদি রেনাল স্টোন ( কিডনী বা মূত্রবাহি নালীতে পাথর) এর জন্য বেদনা হয় তবে উপরোক্ত ঔষধের সাথে বেদনা নাশক ঔসধ প্রয়োগ করতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে বেদনা নাশক ব্যবহার করতে হবে। বেদনা নাশকটি হলো জেনেরিক: ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম (diclofenac sodium) ৪ ব্রান্ড: ডাইক্লোফেন সাপোজিটরি (Diclofen suppository)

।প্রস্তুতকারক; অপসোনিন।

ডোজঃ বেদনার সময় একটি মলদ্বারে ব্যবহার দিনে সর্বোচ্চ ২ টি।

 

শিশুদের ক্ষেত্রে: যদি শিশু পেট বেদনার কথা বলতে পারে তবে

১) এন্টিআলসারেন্ট : জেনেরিক: রেনিটিডিন (ranitidine) ব্রান্ড-রেনিডিন (ranidin)। প্রস্তুতকারক: একমি ল্যাবরেটরিজ ডোজঃ

৮ বছরের অধিক : প্রাপ্ত বয়স্কদেন ন্যায়।

৪-৮ বছর : ৭৫ মিগ্রা (১ চামচ) দিনে ২ বার খাবার ৩০ মিনিটি

পূর্বে।

২) এন্টিস্পাজমোড়িক

জেনেরিক টাইমোনিয়াম মিথাইল সালফেট tiemonium methyle sulphate); |

ব্রান্ড-সিরাপ এলজিন (algin) প্রস্তুতকারক: রেনাটা

ডোজ: ৪ বছরের অধিক বয়স-১ চামচ সিরাপ দিনে ৩ বার।

 

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা যায়। ডায়বেটিস মেলাইটাস এর প্রধান কারণ। তবে হরমোন জনিত সমস্যা, মানসিক সমস্যা, মূত্রথলি ও মূত্রনালীর সমস্যা ইত্যাদি কারণেও এটি হতে পারে।

 

সঠিক রোগ নির্ণয় করেই চিকিৎসা দিতে করাতে হবে। তাই রোগীকে একজন এতে সমস্যার সমাধান না হলে ইউরোলজিস্ট কিংবা মেডিসিন/সার্জারী বিশেষজ্ঞ কিংবা এমবিবিএস চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করতে হবে

 

প্রস্রাবের বেগ ধরে রাখতে অসমর্থ হওয়া

অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা যায়। হরমোন জনিত সমস্যা, মানসিক সমস্যা, মূত্রথলি ও মূত্রনালীর সমস্যা ইত্যাদি কারণে এটি হতে পারে।

সঠিক রোগ নির্ণয় করেই চিকিৎসা দিতে করাতে হবে। তাই রোগীকে একজন এতে সমস্যার সমাধান না হলে ইউরোলজিস্ট কিংবা মেডিসিন সার্জারী বিশেষজ্ঞ কিংবা : এমবিবিএস চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করতে হবে ।

 

প্রস্রাব করতে সমস্যা

এই সমস্যা কখনো কখনো মারাত্নক প্রমাণিত হতে পারে। মূত্রথলিতে পাথর, মূত্রনালীতে প্রতিবন্ধকতা ও পুরুষদের প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া এই সমস্যার প্রধান কারণ। পুরুষরাই এধরনের সমস্যায় বেশী ভোগেন। এ ক্ষেত্রে প্রস্রাব ধীরে ধীরে বের হওয়া, অনেক সময় ধরে ফোটায় ফোঁটায় পড়া, একাধিক ধার সৃষ্টি হওয়া ইত্যাদি সমস্যা থাকতে পারে।

 

সঠিক রোগ নির্ণয় করেই চিকিৎসা দিতে করাতে হবে। তাই রোগীকে একজন এতে সমস্যার সমাধান না হলে ইউরোলজিস্ট কিংবা মেডিসিন/সার্জারী বিশেষজ্ঞ কিংবা এমবিবিএস চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করতে হবে ।

 

শরীরে পানি আসা।

শরীরে পানি আসা বলতে পায়ের গোড়ালী, মুখমন্ডলে, সারা শরীরে বা পেটের ভেতর। পানি আসাকে বোঝায়। হাতে, পায়ে, চোখের পাতা, মুখে পানি আসলে আক্রান্ত স্থান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফোলা ফোলা মনে হয়। সাধারণত সকাল বেলা ঘুম থেকে। ওঠার পর ফোলা ভাব বেশি দেখা যায়। এটি মারাত্নক লক্ষণ। কিডনীর মারাত্বক। সমস্যা জণিত কারণে এ লক্ষন সৃষ্টি হতে পারে। শুধু কিডনীর সমস্যার কারনে নয়, অন্যান্য বিভিন্ন কারনে যেমন- হার্টের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, হরমোন সমস্যা ইত্যাদি কারনে পানি আসতে পারে।

 

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়া মাত্রই কালবিলম্ব না কওে ইউরোলজিস্ট কিংবা মেডিসিন/সার্জারী বিশেষজ্ঞ কিংবা এমবিবিএস চিকিৎসকের নিকট পেরণ করতে হবে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *