চক্ষু রোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

চোখের অঞ্জনি চিকিৎসা ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য।

চোখের অঞ্জনি চিকিৎসা

চোখের অঞ্জনি

চোখের পাতার ভেতরের দিকে বিদ্যমান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্র্যান্ড এর ইনফেকশন হলে তাকে সাধারণ ভাষায় অঞ্জনি বলা হয়। চিকিৎসা পরিভাষায় এর নাম স্টাই (stye)। অঞ্জনি চোখের পাতার প্রান্তভাগে হয়। আক্রান্ত স্থান লাল হয়, ফুলে যায়, বেদনা হয় ইত্যাদি।  এটি ব্যকটেরিয়াজনিত রোগ। নোংরা হাতে চোখ স্পর্শ করলে অঞ্জনি হতে পারে। কারো কারো ঘন ঘন অঞ্জনি হতে দেখা যায়। অঞ্জনির লক্ষণ এবং চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হল ।

 

অঞ্জনির লক্ষণ 

১। চোখ ফুলে যাওয়া ; 

২। চোখে ব্যথা হওয়া ; 

৩। চোখ থেকে অনবরত পানি পড়া ; 

৪। চোখের পলকের চারপাশে আলাদা ত্বকের মতো তৈরি হওয়া এবং পুঁজ বের হওয়া ; 

৫। চোখ চুলকানো ; 

৬। সূর্যের আলোয় চোখ খুলতে সমস্যা হয় ও চোখের পলক ফেলার সময় বেশি ব্যথা হয় ; 

৭। চোখের পাতায় ফুসকুড়ি ওঠে। 

 

অঞ্জনি হলে কী করবেন

১। অঞ্জনি হওয়া চোখে গরম সেঁক দিলে আরাম পাবেন। গরমে পুঁজ বেরিয়ে অঞ্জনি ভালো হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।

২। একটি পরিষ্কার কাপড় গরম পানিতে ডুবিয়ে নিয়ে কাপড় থেকে পানি নিংড়ে চোখের ওপর ৫ থেকে ১০ মিনিট রাখুন। কোনোরকম চাপ না দিয়ে। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বার এটা করতে হবে।

৩। অবশ্যই মনে রাখবেন, চোখে ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করবেন না।

৪। হালকা গরম পানিতে টিয়ার ফ্রি শ্যাম্পু মিশিয়ে তুলোয় করে চোখের পাতা পরিষ্কার করুন। অঞ্জনি ভালো না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন কমপক্ষে একবার এই কাজটি করুন।

৫। গরম সেঁক না দিয়ে গরম টি ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় ব্ল্যাক টি । কারণ ব্ল্যাক টি তে থাকে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। 

৬।  ওষুধ ব্যবহার এর ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

 

অঞ্জনির প্রাথমিক চিকিৎসা

১। আক্রান্ত চোখে হাত দেয়া যাবে না ;

২। যে চোখে সমস্যা সে দিকে কাত হয়ে শুয়ে থাকতে হবে ;

৩। চোখে প্রতিরোধক চশমা পরিধান করতে হবে।

 

ঔষধ

১) এন্টিহিস্টামিন

জেনেরিক: ফেক্সোফেনাডিন (fexofenadin) ব্রান্ড: ফেনাডিন (fenadin), প্রস্তুতকারক: রেনাটা ডোজ: . ০ প্রাপ্ত বয়স্ক (১২ বছরের ঊর্ধে): ৬০-১৮০ মিগ্রা দৈনিক।।

০ শিশু- ২ বছর থেকে ১১ বছর : ৩০ মিগ্রা দিনে ১-২ বার।।

২) আই ড্রপ

। জেনেরিক: ক্লোরামফেনিকল (chloramphenicol)

ব্র্যান্ড-ক্লোরাম (Cloram-0.5%) প্রস্তুতকারক: ইবনেসিনা। ডোজ: ১-২ ফোঁটা প্রতি চোখে দিনে তিন বার।।

৩। এনালজেসিক

ক) প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে

| জেনেরিক: প্যারাসিটামল ফাস্ট রিলিজ । ন ) । ব্র্যান্ড: নাপা র‍্যাপিড (NAPA RAPID) প্রস্তুতকারক:

| বেক্সিমকো ।

। ডোজ: ১ টি ট্যবলেট ৬ ঘন্টা পর পর কিছু খাবার পর। খ) শিশুদের ক্ষেত্রে।

জেনেরিক: প্যারাসিটামল। ব্র্যান্ড: সিরাপ নাপা (NAPA) প্রস্তুতকারক: বেক্সিমকো ডোজ::

। ২ বছর থেকে ৫ বছর: দেড় থেকে দুই চা চামচ

দিনে ৩-৪ বার। । থেকে ১২ বছর : ২-৪ চা চামচ দিনে ৩-৪ বার।

বেশি সমস্যা মনে হলে রোগীকে চক্ষু বিশেষজ্ঞের নিকট প্রেরণ করতে হবে ।

ঘন ঘন অঞ্জনি হওয়ার প্রবণতা দূর করতে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবন করা যেতে পারে। তাই প্রয়োজনে হোমিওপ্যাথিতে এমবিবিএস মানের (বি.এইচ.এম.এস) চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।

চোখের অঞ্জনি চিকিৎসা এর জন্য অনলাইনে আমাদের অবিজ্ঞ দাক্তারদের থেকে পরামর্শ নিতে এখানে ক্লিক করুন  এপয়েন্টমেন্ট

[videogallery id=”stye-alo”]

[videogallery id=”stye-homeo”]

[videogallery id=”stye-harbal”]

চোখের অঞ্জনি চিকিৎসা এর ঘরোয়া প্রতিষেধক

১। ধনিয়া সিদ্ধ: ব্যথা, লালচেভাব এবং ফোলা কমাতে ধনিয়া বেশ উপকারী । এক টেবিল-চামচ ধনিয়া পানিতে সিদ্ধ করে ঠাণ্ডা হওয়ার পর ধনিয়াগুলো ফেলে দিয়ে শুধু পানি দিয়ে আক্রান্ত চোখটি ধুতে হবে। কমপক্ষে দিনে দুতিন বার এভাবে চোখ ধুতে থাকলে ভালো উপকার পাবেন। 

২। অ্যালোভেরা: এতে প্রদাহরোধী একটি বিশেষ উপাদান থাকে যা চোখের লালচেভাব, ফোলাভাব ও জ্বলুনি কমাতে এবং চোখ দ্রুত সারিয়ে তুলতে উপকারী। অ্যলোভেরার পাতা কেটে ভেতরের জেলিজাতীয় যে উপাদানটি আছে সেটি বের করতে হবে। তারপর জেলিজাতীয় উপাদানটি আক্রান্ত চোখে মাখিয়ে নিতে হবে। এভাবে ১০ মিনিট রাখার পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩। পার্সলি: এই সুগন্ধি মসলা-পাতা চোখ পরিষ্কার রাখতে ভীষণ উপকারী। একমুঠ পার্সলি নিয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে পরে এই পানিতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে আক্রান্ত চোখ মুছে নিতে হবে।

৪। আলু: খোসা ছাড়িয়ে নেয়ার পর আলু গোল পাতলা করে কেটে নিয়ে আক্রান্ত চোখের উপর দিয়ে রাখতে হবে। এর ফলে চোখের ফোলাভাব ও ব্যথা ধীরে ধীরে  কমতে থাকবে। ভালো উপকার পেতে দিনে কমপক্ষে দুবার ব্যবহার করতে পারেন। 

৫। চোখে অঞ্জনি হলে বাহিরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই চশমা ব্যবহার করতে হবে। চোখ চুলকাবেন না এবং অঞ্জনিতে কোনো চাপ দেবেন না।

৬। অঞ্জনি হলে মেকআপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। অঞ্জনি হওয়া অবস্থায় মেকআপ করলে ব্রাশ বা অন্যান্য জিনিসে ব্যাকটেরিয়া চলে যাবে এবং সেটা অন্য কেউ ব্যবহার করলে তার চোখেও অঞ্জনি হতে পারে। 

পরিশেষে একটি কথা, নিজে নিজে কখনই সুঁচ দিয়ে অঞ্জনি গলানোর চেষ্টা করবেন না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক মলম ও ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *