নাক কান গলা রোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

হাঁচি এবং নাক দিয়ে পানি পড়ার চিকিৎসা ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য।

The treatment of sneezing and runny nose and the statements of doctors of all methods.

হাঁচি (Sneezing) মূলত নাকের সমস্যা। সাধারণত হাঁচির সাথে নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে। আবার হাঁচি ব্যতিতও নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে। নাকের মিউকোসার ইনফ্লামেশনের কারনে হাঁচি ও নাকদিয়ে পানি পড়া ঘটে থাকে। অ্যালার্জি, ভাইরাস আক্রমন, নাকের আভ্যন্তরিন রোগ থাকা ইত্যাদি কারনে হাচির সমস্যা হতে পারে।

সাধারন ব্যবস্থাপনা 

  • এলার্জি সৃষ্টি হয় এমন কিছু এড়িয়ে চলতে হবে।
  • নাকে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • হাঁচির সময় রুমাল ব্যবহার করতে হবে।

 

নাক দিয়ে পানি পড়ার চিকিৎসা: 

১। রসুনঃ এক কাপ জলের মধ্যে প্রথমে দু’তিন কোয়া রসুন দিন এবং জল ভালো করে ফুটিয়ে নিন। তার সাথে আধ চামচ হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এই জল খাওয়ার পর নাক পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

২। ভিনিগারঃ এক কাপ গরম জল নিয়ে তার মধ্যে দুই চামচ ভিনিগার ও এক চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারলে মিউকাস পরিষ্কার হবে। দিনে দুই থেকে তিন বার খেলে আশা করা যায় সর্দি সম্পূর্ণ কমে যাবে।

৩। স্টিমঃ জলের মধ্যে জোয়ান গুঁড়ো মেশাতে হবে এবং তারপর সেই জলের শ্বাস নিন। এর ফলে বন্ধ নাক খুলে যাবে এবং মাথাও যথেষ্ট হালকা লাগবে।

৪। নুন জলঃ দুই কাপ গরম জল নিয়ে তার মধ্যে এক চা চামচ লবন মিশিয়ে নিন। তারপর জল নাক দিয়ে টানতে থাকুন, দেখবেন কিছুক্ষন পর নাক পরিষ্কার হয়ে যাবে।

৫। গোলমরিচঃ  অল্প একটু গোলমরিচের গুঁড়োর সাথে সামান্য সর্ষের তেল নিয়ে আঙুলে দিয়ে নাকের কাছে ধরুন। সাথে সাথে হাঁচি হবে। যার ফলে নাক ও  মাথা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

৬। আদাঃ পানির সাথে পরিমান মত আদা কুচি নিয়ে ৫-১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। পানি  ঠাণ্ডা হওয়ার পর এতে সামান্য মধু দিয়ে দিন। এই পানীয় দিনে কয়েক বার খেলে উপকার পাবেন। 

 

আমাদের অবিজ্ঞ দাক্তারদের থেকে পরামর্শ নিতে এখানে ক্লিক করুন  এপয়েন্টমেন্ট

[videogallery id=”sneezing-alo”]

হাঁচি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ (শিক্ষার্থীদের জন্য)

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ সেবন নিষিদ্ধ

এন্টিহিস্টামিন শ্রেণীর ঔষধ।

ক) স্বল্প থেকে মধ্যম মাত্রার সমস্যার জন্য  জেনেরিক: ক্লোরফেনিরামিন মেলিয়েট (chlorpheniramine  maleate) (দ্রিাকারক)। 

ব্রান্ড: পিরিটন (piriton)

ডোজ:

  • এ প্রাপ্ত বয়স্ক: ৪ মিগ্রা ট্যাবলেট দিনে ৩ বার।
  • শিশু-৬ মাস থেকে ১ বছর: আধা চামচ (২.৫ মিলি/১ মিগ্রা) দিনে ২ বার। ।
  • শিশু-১-৫ বছর সিরাপ- আধা চামচ (২.৫ মিলি/১ মিগ্রা) দিনে তিন বার।
  • শিশু ৫-৮ বছর: ২ মিগ্রা দিনে তিন বার
  • শিশু-৯ থেকে ১১ বছর: ৪ মিগ্রা দিনে ২-৩ বার ।

খ) মধ্যম থেকে তীব্র মাত্রার সমস্যার ক্ষেত্রে: 

জেনেরিক: সেট্রিজিন (cetirizine) ;

ব্রান্ড: এলাট্রল (alatrol)

ডোজ:

  • প্রাপ্ত বয়স্ক ও ছয় বছরের উর্দ্ধে শিশুদের ক্ষেত্রে : ১০ মিগ্রা দৈনিক।
  • ২-৬ বছরের শিশু : ৫ মিগ্রা প্রতিদিন।

গ) তীব্র মাত্রার ক্ষেত্রে 

জেনেরিক: ফেক্সোফেনাডিন (Fexofenadine)

ব্রান্ড: ফেনাডিন (Fenadine) ।

ডোজঃ

  • প্রাপ্ত বয়স্ক (১২ বছরের ঊর্ধে): ৬০-১৮০ মিগ্রা দৈনিক ।
  • শিশু- ৬ মাস থেকে ২ বছর : ১৫ মিগ্রা দিনে ২ বার ।
  • শিশু- ২ বছর থেকে ১১ বছর : ৩০ মিগ্রা দিনে ১-২ বার।

[videogallery id=”sneezing-har”]

চট করে হাঁচি দূর করতে কী করবেন 

১।  মুখের ওপরের অংশে এবং গলার পেছনের অংশে  ভালও করে মালিশ করুন। প্রয়োজনে হালকা মালিশ করুন। এতেও আশা করি হাঁচি কমবে।

২। বেশি করে ঠাণ্ডা পানি খেলে হাঁচি সমস্যায় তাড়াতাড়ি উপকার পাওয়া যায়।

৩। নাক দিয়ে নিশ্বাস নেয়ার সময় নাকে হালকা করে চাপ দিন। এটি হাঁচির সমস্যা কমাতে অনেক সহায়ক।

৪। হাঁচি বন্ধ করার জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি হল, দুই কানে দুই আঙ্গুল ঢুকিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। দেখবেন হাঁচি নিমেষেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

৫। লেবুর রসের সঙ্গে আদা কুচি খেলে হাঁচি বন্ধ হয়। 

৬। লম্বা শ্বাস নিয়ে ভেতরে অনেকক্ষণ রাখুন এবং অবশ্যই নাকও বন্ধ রাখুন। সমস্যা নিমেষেই  মিটে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *