নাক কান গলা রোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

কাশি ও গলায় খুসখুসের চিকিৎসা ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য

Cough and sore throat treatment and all the methods of doctors.

গলায় খুসখুস ভাব

মূলত ল্যারিংক্স বিভিন্ন সমস্যার কারনে হয়ে থাকে। জীবানুর সংক্রমন ও ইনফ্লামেশন সমস্যাগুলোর প্রধান কারন। ল্যারিনজাইটিস (ল্যারিংক্স এর ইনফ্লামেশন) হলে গলায় খুসখুসি ভাব সৃষ্টি হয় এবং ফলশ্রুতিতে কাশি হতে পারে।

কাশি 

আকস্মিকভাবে ও সশব্দে লাঙ ( ফুসফুস ) হতে বাতাস বের হয়ে যাওয়াকে কফ (cough) বা কাশি বলা হয়। এটি হতে পারে ঐচ্ছিক কিংবা অনৈচ্ছিক। কাশি কোন রোগ নয়, রোগের লক্ষণ/চিহ্ন মাত্র। কাশির সাথে ফুসফুস থেকে এক ধরণের তরল পদার্থ বের হতে পারে, একে স্পুটাম (বাংলা ভাষায়- গয়ার, কফ, কাশি) বলা হয়।

কাশির কারণ 

ফ্যারিংস, ল্যারিংস, ট্রাকিয়া, ব্রংকাই এবং লাঙ প্যারেনকাইমা-র বিভিন্ন রোগাবস্থায় কাশি সৃষ্টি হয় (মূলত ইনফেকশন ও ইনফ্লামেশন )।

রোগীর উপস্থাপনা 

রোগী কাশি ও তৎসহ অন্যান্য সমস্যার কথা বলতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জ্বর, গা ব্যথা, মাথাব্যথা, নাকদিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ থাকা, হাঁচি থাকতে পারে।

চিকিৎসকের করনীয়। 

পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নেয়া। শ্বাস প্রশ্বাস হার দেখা। স্টেথোস্কোপ দ্বারা বুকের ভেতরের শব্দ শোনা। পালস, তাপমাত্রা, রক্তচাপ দেখা।

সম্ভাব্য রোগ নির্ণয় 

কাশির সাথে যদি থাকে 

সম্ভাব্য রোগ 

সর্দি (নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি) শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন।
শ্বাস কষ্ট শ্বাসতন্ত্রের মারাত্নক ইনফেকশন, সিওপিডি, এজমা ইত্যাদি।
গলা ব্যথা মারাত্নক ল্যারিনজাইটিস, টনসিলাইটিস।
গলা খুসখুসি। ল্যারিনজাইটিস
গা ব্যথা করা, নাক দিয়ে পানি পড়া ভাইরাস জ্বর
কপালে ও চোখের উপরে ব্যথা। সাইনুসাইটিস
কাশি, উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট’ (বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধ)। নিউমোনিয়া
অবিরাম বা সবিরাম ভাবে তিন সপ্তাহের বেশি রাতে রাতে জ্বর আসা, ওজন হ্রাস পাওয়া। যক্ষা, ক্যান্সার, এইডস
এক নাগাড়ে তিন সপ্তাহের বেশি কাশি যক্ষা, সিওপিডি, ক্যান্সার
কাশির সাথে রক্ত আসা যক্ষা, ব্রংকাইটিস, ক্যান্সার ইত্যাদি

 

চিকিৎসা নির্দেশনা 

সাধারণ ব্যবস্থাপনা

  • ঠান্ডা এড়িয়ে চলতে হবে।
  • কুসুম গরম পানির সাথে সামান্য লবন মিশিয়ে গড়গড়া করে কুলি করা দিনে ৪-৫ বার।
  • গরম পানি খাওয়া। আদা, তুলসীর রস। আদা চা ইত্যাদি উপকারী হতে পারে।

 

আমাদের অবিজ্ঞ দাক্তারদের থেকে পরামর্শ নিতে এখানে ক্লিক করুন  এপয়েন্টমেন্ট

[videogallery id=”cough-alo”]

 

 

কাশি চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ (শিক্ষার্থীদের জন্য)

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ সেবন নিষিদ্ধ

ক) এন্টিবায়োটিক: 

১) মৃদু মাত্রার আক্রমনে

  • জেনেরিক: এমক্সিসিলিন (amoxicillin)।
  • ব্রান্ড: ফাইমোক্সিল (Fimoxyl)

ডোজ:

প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে (১২ বছরের ঊর্ধ্বে) : ৫০০ মিগ্রা দিনে তিনবার।

শিশু:

বয়স সর্বোচ্চ একক মাত্রা সেবন বিধি
১ বছর বয়স পর্যন্ত ৬২.৫-১২৫ মিগ্রা ১ মিলি পেডিয়াট্রিক ড্রপ দিনে তিন বার।

অথবা আধা চামচ থেকে ১ চামচ সিরাপ দিনে তিন বার।

১-২ বছর ১২৫ মিগ্রা ১.২৫ মিলি ড্রপ দিনে তিন বার।

অথবা ১ চামচ দিনে তিন বার।

২-৫ বছর ১২৫ মিগ্রা ১ চামচ দিনে তিন বার।
৫-১২ বছর ১২৫-২৫০ মিগ্রা ১.৫ থেকে ২ চামচ দিনে তিন বার।
চিকিৎসা কাল নূন্যতম ৭ দিন।

 

২) মধ্যম থেকে উচ্চমাত্রার আক্রমনে:

  • জেনেরিক: এজিথ্রোমাইসিন (azithromycin)।
  • ব্র্যান্ড : জিথ্রিন (zithrin) প্রস্তুকারক: রেনাটা।

ডোজ

  • প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে : দৈনিক ৫০০ মিগ্রা হিসেবে ৩ থেকে ৬ দিন।
  • শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ মিগ্রা/কেজি হিসেবে
বয়স গড় মাত্রা  
৩-৬ মাস বয়স পর্যন্ত ৫০ মিগ্রা সিরাপ: একচামচের চারভাগের একভাগ দিনে একবার ৩-৬ দিন।
৬ মাস থেকে ১ বছর ৭৫ মিগ্রা একচামচের তিনভাগের একভাগ ৩-৬ দিন
১ বছর থেকে ২ বছর ১০০ মিগ্রা আধা চামচ দিনে একবার ৩-৬ দিন
২ বছর থেকে ৫ বছর ১২৫ মিগ্রা এক চামচ দিনে একবার ৩-৬ দিন
৫ বছর থেকে ১২ বছর ২৫০ মিগ্রা ২৫০ মিগ্রা ট্যাবলেট অথবা
১.২৫ চামচ সিরাপ দিনে এক বার, ৩-৬ দিন

 

) কফ প্রিপারেশন 

  • জেনেরিক: এমব্রোক্সোল হাইড্রোক্লোরাইড (ambroxol hydrochloride);
  • ব্রান্ড: এমব্রোক্স (ambrox); প্রস্তুতকারক-স্কয়ার

ডোজ:

  • ক্যাপসুল (৭৫ মিগ্রা সাসটেইন রিলিজ): প্রাপ্ত বয়স্ক ( ১২ বছরের অধিক) একটি ক্যাপসুল দিনে এক বার।
  • সিরাপ : ২-৫ বছর – ২.৫ মিলি হিসেবে দিনে ২-৩ বার। ৫-১০ বছর – ৫ মিলি হিসেবে দিনে ২-৩ বার। ১০ বছরের বেশি ও প্রাপ্ত বয়স্ক – ১০ মিলি হিসেবে দিনে ২-৩ বার।
  • পেডিয়াট্রিক ড্রপ: ০-৬ মাস – ০.৫ মিলি দিনে ২ বার। ৬-১২ মাস – ১ মিলি দিনে ২ বার। ১-২ বছর – ১.২৫ মিলি দিনে ২ বার।

) সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যা ঔষধ 

লক্ষণ ঔষধ
সর্দি (নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, হচি) উপরোক্ত চিকিৎসার সাথে এন্টিহিস্টামিন (সতর্কতা: এন্টিহিস্টামিন স্পুটামকে ঘণ করতে পারে)
শ্বাস কষ্ট উপরোক্ত চিকিৎসার সাথে ব্রংকোডাইলেটর (সতর্কতা:
হাসপাতালে প্রেরণ করার প্রয়োজন হতে পারে।)
গলা ব্যথা উপরোক্ত চিকিৎসার সাথে প্যারাসিটামল
জ্বর উপরোক্ত চিকিৎসার সাথে প্যারাসিটামল অথবা। সমন্বিতভাবে জ্বরের চিকিৎসা।

[videogallery id=”cough-harbal”]

 

গলা খুসখুস দূর করার ঘরোয়া উপায়

১। প্রতিদিন ১-৩ বার এক চামচ করে মধু খাওয়ার ফলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে ভালো হয় আপনি যদি ঘুমানোর আগে এক চামচ মধু খেতে পারেন । এর কারণ হল,  মধুর অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান কাশি প্রতিরোধে অনেক বেশি কার্যকর।

২। আদার মধ্যে রয়েছে  অ্যান্টি ইনফ্লামেটরী উপাদান যা গলার অস্বস্তিকরভাব দূর করতে সাহায্য করে । সম্ভব হলে  রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে  এক কাপ আদা দিয়ে  চা বানিয়ে পান করতে পারেন। এছাড়া আরেকটি কাজ করতে পারেন,  এক কাপ পানিতে আদা কুচি নিয়ে জ্বাল দিয়ে দিনে ৩-৪ বার পান করতে পারেন। এতে শুষ্ক কাশি কমে যাবে।

৩। গলার খুসখুসে কাশি দূর করতে পেঁয়াজ খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যেভাবে খাবেনঃ-  আধচামচ পেঁয়াজের রস নিবেন এবং তার সাথে  এক চা চামচ মধু নিয়ে এক সঙ্গে মিশিয়ে চায়ের মতো প্রতিদিন দুইবার করে পান করতে পারেন । 

৪।  খুসখুসে কাশি কমানোর আরেকটি উপাদান হল রসুন।  রসুনে রয়েছে এক্সপেকটোরেন্ট এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান যেটা কাশি উপশমে বিশেষ ভাবে কাজ করে। একচামচ  ঘি নিয়ে তাতে রসুনের পাঁচটি কোয়া কুচি করে হালকা ভেজে নিবেন। তারপর সেটা কুসুম গরম অবস্থায় খেয়ে নিন।

৫।  গলাব্যথা  কমানোর সহজ পদ্ধতি হল গার্গল করা। একটি গ্লাসে কুসুম গরম পানি নিন এবং তারপর পানির মধ্যে  আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে ১৫ মিনিট ধরে গার্গল করুন। 

One thought on “কাশি ও গলায় খুসখুসের চিকিৎসা ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য

  1. ehsan says:

    👍

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *