চর্ম ও যৌন রোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

যৌণ রোগ

যৌণ রোগ

চিকিৎসা পরিভাষায় যৌনরোগকে এসটিডি (STD) বা সেক্সয়াল ট্রান্সমিটেড ডিজিজ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এসটিডি সমূহকে এসটিআই (STI) বা সঞ্জুয়াল ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন)।

সেক্সয়াল ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (বাংলায় যৌনবাহিত রোগ বা যৌনরোগ) হলো এমন ধরনের জীবাণুঘটিত রোগ যা প্রাথমিকভাবে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে বিস্তার লাভ করে।

 

এখানে কিছু কিছু যৌন রোগ সরাসরি যৌন মিলন (স্ত্রী অঙ্গে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ) কিংবা শুধু মাত্র যৌন ক্রিয়া (চুম্বন, দুটি যৌনাঙ্গের । যৌনাঞ্চলের সংস্পর্শ ইত্যাদি) দ্বারা। পুরুষ থেকে মহিলা ও মহিলা থেকে পুরুষে বিস্তার লাভ করে।

কিছু যৌনরোগ ও দায়ী জীবানুর নামও

 

 

যৌন রোগের বিস্তার

সাধারনত একজন সুস্থ ব্যক্তি রোগাক্রান্ত একজনের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে সুস্থ ব্যক্তিটি আক্রান্ত হতে পারে। আবার এই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যজনের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে নতুন ব্যক্তিটিও আক্রান্ত হতে পারে। এভাবেই যৌন রোগের বিস্তৃতি ঘটে। সকল যৌনরোগ একই ভাবে বিস্তার লাভ করেনা। তবে সাধারণ ভাবে নিম্নলিখিতভাবে যৌন রোগ বিস্তার লাভ করতে পারে

 

শারীরিক (যৌন) সম্পর্ক : পুরুষ হতে তার স্ত্রী/যৌন সঙ্গী, মহিলা হতে তার স্বামী ! যৌন সঙ্গী তবে অনিরাপদ যৌণ সম্পর্কের। (অনৈতিক/বিবাহবহির্ভূত/অর্থের বিনিময়ে ইত্যাদি) মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। প্রত্যক্ষ যৌণ ক্রিয়া ও পরোক্ষ যৌন ক্রিয়া (যেমন চুম্বন, লেহন, দুটি যৌনাঙ্গের স্পর্শ ইত্যাদি) উভয়ই বিস্তারের মাধ্যম হতে পারে।

অনিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন; পরীক্ষা না করে অন্যের রক্ত গ্রহন।

অনিরাপদ সার্জারী; জীবানুমুক্ত না করে অপারেশনের যন্ত্রপাতি (সিরিঞ্জ, ব্লেড, কাচি ইত্যাদি) ব্যবহার।

দুর্বল ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা; যেমন- একই ব্লেড/রেজার ইত্যাদি দ্বারা একাধিক ব্যক্তির সেভ করা। অপরের টুথব্রাশ ব্যবহার করা। অপরের নিম্ন অন্তর্বাস ব্যবহার করা।

 

অনিরাপদ কর্মকান্ড; যেমন- রক্তের সংস্পর্শে আসা ( অর্থাৎ খালি হাতে অন্য কারো রক্ত স্পর্শ করা ) । একই যন্ত্র দ্বারা একাধিক ব্যক্তির শরীরে ছিদ্র করা বা উলকি আঁকা ইত্যাদি। /

মাদক গ্রহন; একই সিরিঞ্জের মাধ্যমে বহুজনের মাদক গ্রহন।

মা হতে শিশু: আক্রান্ত মা হতে গর্ভস্থ শিশুর দেহে বিস্তার। স্তন দুগ্ধ হতে শিশুর দেহে বিস্তার।

 

সরাসরি যৌন মিলন দ্বারা যে সকল রোগ বিস্তার করে

গনোরিয়া

সিফিলিস

হেপাটাইটিস বি

এইডস

স্যাংক্রয়েড

হরপিস

ট্রাইকোমোনিয়াসিস

 

যৌনক্রিয়া হারা যে সকল রোগ বিস্তার করতে পারে- (চুম্বন, স্ত্রী ও পুরুষ যৌনাঙ্গের / যৌনাঞ্চলের সংস্পর্শ ইত্যাদি)।

গনোরিয়া

সিফিলিস

হেপাটাইটিস বি

এইডস

স্যাংক্রয়েড

হরপিস

ট্রাইকোমোনিয়াসিস

স্ক্যাবিস

 

 

যাদের যৌনরোগের ঝুঁকি রয়েছে 

যৌন কর্মী

যৌন কর্মীদের খদ্দের

যার ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করে।

বহুগামী (যারা একাধিক সঙ্গীর সাথে যৌনক্রিয়া করে)

বহুগামীর যৌন সঙ্গী।

মেডিকেল ল্যাব কর্মী, নার্স, চিকিৎসক ইত্যাদি যারা মানুষের রক্ত ও টিস্যুর সংস্পর্শে আসে।

 

যৌন রোগ প্রতিরোধ

যৌন রোগ প্রতিরোধে করনীয় 

স্বাস্থ্য শিক্ষা অথাৎ যৌণরোগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা।

অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক (অনৈতিক/বিবাহবহির্ভূত/অর্থের বিনিময়ে যৌণ কর্মীর সাথে ইত্যাদি) সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে।

পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রক্ত গ্রহন করতে হবে।

অপারেশনের যন্ত্রপাতি (সিরিঞ্জ, ব্লেড, কাচি ইত্যাদি) সম্পূর্ণভাবে জীবানুমুক্ত করে ব্যবহার করতে হবে। যে কোন ধরনের ছোট খাটো অপারেশনের ( কাটা স্থান সেলাইকরা, ফোড়া কাটা, দাঁত তোলা, দাতের অন্যান্য কাজ ইত্যাদি) জন্য হাসপাতালে/উন্নত প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করতে হবে। অন্য কোথাও করতে হলে যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ জীবানুমুক্ত কি না তা নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। অন্যের ব্যবহৃত ব্লেড/রেজার ব্যবহার করা যাবে না। সেলুনে সেভ করতে হলে নতুন ব্লেড ব্যবহার করতে হবে। নিজের টুথব্রাশ সাবধানের সাথে সংরক্ষন করতে হবে। অন্য কারো নিম্ন অন্তর্বাস ব্যবহার করা যাবেনা।

যারা রক্তের সংস্পর্শে আসেন (যেমন- ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ইত্যাদি) তাদের গ্লাভস পরিধান করতে হবে ও সতকর্তার নিয়ম মেনে চলতে হবে।

যন্ত্র দ্বারা উল্কি আঁকা, পার্লারে একই সুই দ্বারা একাধিক ব্যক্তির নাক কান ফোঁড়াননা, ব্রণ উঠানো ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

মাদক পরিহার করতে হবে।

গর্ভবতীকে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিবাহের পূর্বে অবশ্যই হেপাটাইটিস-বি এর টিকা গ্রহন করা ।

জন্ডিস দেখা দিলে দ্রুত একজন এমবিবিএস মানের চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।

একজন আক্রান্ত হলে সঙ্গীর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার চিকিৎসা করানো।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে যৌনরোগ প্রতিরোধে কনডম ব্যবহারের কথা বলা হয়ে থাকে তবে তার গ্রহনযোগ্যতা শতভাগ নেই। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে কনডম ব্যবহারও সকল যৌনরোগের প্রতিরোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে না। তাই যৌণ রোগ প্রতিরোধে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক ( প্রত্যক্ষ যৌন সম্পর্ক ও যৌন , ক্রিয়া) থেকে বিরত থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *