নাক কান গলা রোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

দাঁত নড়ে কেন ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য।

দাঁত নড়া

সাধারণত দুধ দাঁত পড়ার সময় হলে দাঁতটি নড়ে এবং একসময় পড়ে যায়। আবার বৃদ্ধ বয়সেও দাঁতের গোড়া দুর্বল হয়ে দাঁত নড়ে এবং সময়মত চিকিৎসা না করালে দাঁত পড়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে দাঁত নড়লেও তা ঠিক হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত একজন বিডিএস চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

দাঁত নড়া বা পড়ে যাওয়ার অনেক কারণ আছে । তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি  কারণ এখানে তুলে ধরা হলঃ 

১। মুখে আঘাত পাওয়া: বিশেষ দুর্ঘটনায় মুখে জোরে কোন আঘাত পেলে দাঁত নড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সড়ক দুর্ঘটনা অথবা খেলাধুলার সময় কিংবা পড়ে গিয়ে আঘাত লেগে দাঁত নড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। আবার শক্ত কোনো কিছু কামড় দিলে দাঁত নড়তে পারে।  

২। দাঁতের ধারক কলায় প্রদাহ: নিয়মিত ভাবে দাঁত পরিষ্কার না করলে কিংবা দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকলে দাঁত ও মাড়ির মধ্যকার স্থানে জীবাণুর সংক্রমণের কারনে প্লাক ও পরে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যার ফলে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় ও তাদের তৈরি ক্ষতিকারক পদার্থ ক্রমান্বয়ে মাড়ি ও হাড় থেকে দাঁতের বন্ধন নষ্ট করার চেষ্টা করে এবং দাঁত দুর্বল করে দেয়। অন্যদিকে আক্রান্ত দাঁতের সংক্রমণে দাঁতের মধ্যকার মজ্জা নষ্ট করে দেয় এবং চোয়ালের হাড়ের মধ্যে প্রদাহ হতে পারে। যার ফলে পরবর্তীতে সিস্ট বা টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে ধারক কলা নষ্ট হয়ে দাঁত নড়ে যেতে পারে।

৩। হরমোনের প্রভাব: বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্যের প্রভাব জনিত কারনে গর্ভাবস্থায় ও মেনোপজের সময় চোয়ালের হাড় ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যার ফলশ্রুতিতে দাঁত নড়ে যেতে পারে। 

৪। অসম কামড়: একটি দাঁতের সাথে অন্য একটি দাঁতের ঘষার কারনে কিংবা দাঁত কামড়ানোর অভ্যাসের কারণে দাঁত নড়ে যেতে পারে। আবার অনেকের দাঁত এলোমেলো, উঁচু–নিচু হয়ে থাকে। এসব দাঁত পরিষ্কার রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে কোনো কোনো দাঁতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে যায় যার ফলে দাঁত নড়ে যেতে পারে।

৫। হাড় ক্ষয় রোগ: ক্যালসিয়াম কিংবা ভিটামিন ডি–স্বল্পতার কারণে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ঘনত্ব কমে হাড় ক্ষয় রোগ হয়। এই রোগে চোয়ালের হাড় ক্ষয় হয়ে যায় এবং যার ফলে দাঁত নড়ে যেতে পারে।

 

নড়া দাঁত মজবুত করার ঘরোয়া উপায়ঃ 

১। মুখ ধোয়া : মনে রাখবেন, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে দাঁত নড়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনে থাকে সর্বাধিক। কমপক্ষে দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করুন। সবসময় খাওয়ার পরে ভালো করে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করা উচিত। 

২। লবণ এবং সরিষার তেল : সরিষার তেলের সাথে এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে এবং মৃদু মালিশ দ্বারা আপনার মাড়ির ওপর প্রয়োগ করুন। দাঁত নড়া সমস্যায় এটি একটি অন্যতম সেরা ঘরোয়া প্রতিকার। 

৩। কালো মরিচ এবং হলুদ: মরিচ গুঁড়া ও হলুদ নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন এবং তারপর সেটা আপনার মাড়ির ওপর আলতো করে ম্যাসাজ করুন। প্রয়োগের কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর খাবার খান। এর ফলে মাড়ির ব্যথা ও ফোলা উপশম হবে।

৪। আমলা : আমরা জানি আমলা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি মাড়ি ও দাঁতের সংযুক্ত টিস্যু নিরাময় করতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। এটি আবার নড়া দাঁত নিরাময় করতেও সাহায্য করে। আমলার রস দিয়ে দিনে অনেকবার মুখ কুলকুচি করুন তাছাড়া আপনি রসটি পানও করতে পারেন।

৫। লবণ: এক গ্লাস জলে লবন গুলে মুখ কুলকুচি করুন। এটা সব মৌখিক সংক্রমণ নাশ করবে। কারণ লবণে এন্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি আপনার মাড়িকে শক্ত করবে এবং দাঁত নড়া প্রতিরোধ করবে।

৬। লবঙ্গ তেল: এটি দাঁত ব্যথা এবং মাড়ি প্রদাহের জন্য অনেক প্রাচীন একটি সুপরিচিত প্রতিকার। এটি মাড়ি মজবুত করতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। মাড়ির ওপর ম্যাসেজ করুন ব্যথা ও প্রদাহ থেকে স্বস্তি পাবেন এবং এটি দাঁত নড়া  ঠিক করতেও সাহায্য করে।

এছাড়া দাঁত নড়া সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে সবুজ শাক সবজি খান বেশি করে। সবুজ শাক-সবজি এই ধরনের সংক্রমণ থেকে আপনাকে দূরে রাখবে।

 

এর জন্য অনলাইনে আমাদের অবিজ্ঞ দাক্তারদের থেকে পরামর্শ নিতে এখানে ক্লিক করুন  এপয়েন্টমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *