জ্বর ও সংক্রামক রোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

ম্যালেরিয়া জ্বরের চিকিৎসা ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য।

ম্যালেরিয়া (malaria) জ্বর হলো প্লাজমোডিয়াম গণভূক্ত প্রোটোজোয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ। যা এনোফিলিশ মশার মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। আমাদের দেশে মূলত পাহাড় অঞ্চলে এই রোগ বেশি দেখা যায়। ম্যালেরিয়া জ্বরের চিকিৎসা এবং বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের ম্যালেরিয়া দেখা যায়।

  • বিনাইন টারসিয়ান ম্যালেরিয়া: প্লাজমোডিয়াম ভিভ্যাক্স দ্বারা সৃষ্ট।
  • ম্যালিগন্যান্ট টারসিয়ান ম্যালেরিয়া: প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপ্যারাম দ্বারা সৃষ্ট।

 

ম্যালেরিয়ার প্রাথমিক বিপদ সংকেত: 

ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে সাধারণত নিচের লক্ষণ গুলো বিশেষ ভাবে দেখা যায়- 

১। পানি অথবা অন্যান্য খাবারের প্রতি অনেক বেশি অনিহা ;

২। ঘন ঘন বমি ; 

৩। খিঁচুনি ও ঝিমুনি ভাব ; 

৪। রোগীর মাঝে অনেক বেশি ক্লান্তি দেখা দেয় ;  

৫। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া । তখন অনতিবিলম্বে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যেতে হবে।

ম্যালেরিয়া জ্বরের কারণ কি : 

ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্ট হয়  মশক বাহিত প্লাজমোডিয়াম পরজীবী থেকে । এই রোগটি শুধু মাত্র সংক্রমিত স্ত্রী অ্যানোফেলিস মশার কামড়ে হয়ে থাকে। এই রোগটি ( ফ্যালসিপ্যারাম, প্লাজমোডিয়াম ভাইভাক্স, ম্যালেরি ও ওভাল )  এর যেকোনো একটি জীবাণু বহনকারী মশার দংশনে হতে পারে। ‘ফ্যালসিপ্যারাম ম্যালেরিয়া’ এর মধ্যে  সবচেয়ে বেশি জটিল, এমনকি এটি মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করে, যার কারনে প্রানহানিও হতে পারে। সংক্রমিত মশা যখন কোনো ব্যক্তিকে কামড়ায়, তখন ওই ব্যক্তির রক্তে ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্রবেশ করে এবং সে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। 

ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণঃ- 

ম্যালেরিয়া জ্বরের চিকিৎসা শুরু করার পূর্বে ম্যালেরিয়ার লক্ষণ ভালভাবে বুঝে নিতে হবে। তবে সাধারণভাবে এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হলোঃ

  • কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা। জ্বর ১০৫-১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনেক সময় জ্বর আসা-যাওয়া করে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট বিরতিতে (যেমন একদিন পর পর জ্বর এসে তা তিন-চার ঘণ্টা দীর্ঘ হতে পারে)। এরপর ঘাম দিয়ে জ্বর কমে যায় ;
  • মাঝারি থেকে তীব্র কাঁপুনি বা শীত শীত অনুভব ;
  • মাথা ব্যথা ;
  • ক্ষুধামন্দা ;
  • বমি বমি ভাব অথবা বমি ;
  • কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা ডায়রিয়া ;
  • ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব করা ;
  • এনিমিয়া ;
  • মারাত্নক ক্ষেত্রে খিচুনি ও অচেতনতা (ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া) ।

ম্যালেরিয়া রোগীর খাবারঃ- 

ম্যালেরিয়া জ্বরের চিকিৎসা এর একটি অন্যতম অংশ হল রোগীর খাবার। এই দিকটা বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

১। ম্যালেরিয়া রোগীর খাবার এর তালিকায় অবশ্যই  পুষ্টিকর খাবার, প্রোটিন যুক্ত খাবার রাখতে হবে। 

২। ভেষজ গুণ সম্পন্ন মশলা খাওয়া যেতে পারে। যেমনঃ-  মেথি ভেজানো পানি এবং দুধের সাথে হলুদ মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। 

৩।  প্রচুর পানি খেতে হবে। 

৪। এছাড়া বাদাম, জাম্বুরা ,দারুচিনি এগুলো ম্যালেরিয়া রোগীর জন্য উপাধেও খাদ্য। 

৫। আদার রস ম্যালেরিযা রোগীর ঘন ঘন বমি হওয়ার প্রবণতাকে ধীরে ধীরে কমিয়ে আনে। সেইসঙ্গে এটি রোগীর খাবারের প্রতি রুচিও বৃদ্ধি করে।

অনলাইনে আমাদের অবিজ্ঞ দাক্তারদের থেকে পরামর্শ নেয়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন  এপয়েন্টমেন্ট

[videogallery id=”malaria-alo”]

[videogallery id=”malaria_homeo”]

[videogallery id=”malaria-harbal”]

ম্যালেরিয়ার রোগের চিকিৎসা ঘরোয়া ভাবে

কোন রোগীর মাঝে উপরোক্ত লক্ষণসমূহ দেখা দিলে তাকে জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে দ্রুত নিকটস্থ ম্যালেরিয়া চিকিৎসা কেন্দ্র অথবা সরকারী হাসপাতালে প্রেরণ করতে হবে। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ এ ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে প্রথমেই মশা নিয়ন্ত্রন করতে হবে। ঘুমানোর সময় মশারী ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রতিষেধক সেবন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *