জ্বর ও সংক্রামক রোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

কালা জ্বরের চিকিৎসা ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য ।

কালা জ্বরের চিকিৎসা

kala azar treatment, and all the Procedures of the doctors.

কালাজ্বর কি?

কালা জ্বর (leishmaniasis) হলো লিসমেনিয়া ডনোভ্যানি নামক প্রোটোজোয়া দ্বারা সৃষ্ট ইনফেকশন যা স্যান্ডফ্লাই দ্বার বিস্তার লাভ করে। সাধারণত মাটির ঘর আছে এমন এলাকায় কালাজ্বরের বিস্তার দেখা যায়। এই জীবাণু প্রথমে  মানুষের রক্তের ম্যাক্রোফেই দ্বারা বাহিত হয়ে ক্রমশ অন্ত্রে প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে লিভার, প্লীহা ও অস্থিমজ্জা আক্রান্ত করে বংশ বৃদ্ধি করতে থাকে । কিন্তু একটা বিস্ময়কর কথা হল, এ রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার পর থেকে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পেতে কমপক্ষে  ২মাস থেকে ৬মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এখানে কালা জ্বরের চিকিৎসা এবং এর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

কালাজ্বরের লক্ষণ 

১। মৃদু থেকে মধ্যম মাত্রার, অনিয়মিত, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর ; 

২। ধীরে ধীরে দেহের ওজন হ্রাস পাওয়া তবে সাধারণত ক্ষুধা মন্দা থাকে না ;  

৩। দেহের ত্বকের বিভিন্ন স্থানে (মুখ মন্ডলে বেশি দেখা যায়) কালচে দাগ দেখা যাওয়া ; 

৪। কাশি ডায়রিয়া ; 

৫। নাক দিয়ে বা কাশির সাথে বা বমির সাথে রক্তক্ষরণ হতে পারে ; 

৬। স্পিন আকারে বড় হয়ে যাওয়া ; 

৭। এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা ; 

৮। দেহের লিম্ফনোডগুলোর বিবৃদ্ধি । 

কালাজ্বরের চিকিৎসা 

কালাজ্বরের লক্ষণ দেখা গেলে রোগীকে রোগ নির্ণয় চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে প্রেরণ করতে হবে। 

কালা জ্বরের চিকিৎসা বিস্তারিতঃ

কাজা জ্বর রোগ সনাক্ত হয়ে গেলে ‘স্টিবাটিন’ জাতীয় ঔষধ সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করলে অধিকাংশ রোগীই ভালো হয়ে যায় ৷ কিন্তু একটা বিশেষ সমস্যা হচ্ছে স্টিবাটিন ঔষধটিরও বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ৷ সুতরাং ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিরেকে ঔষধ সেবন করা একদমই উচিত নয়। স্টিবাটিন ইনজেকশন শুরু করার পর কিছুকিছু রোগীর রক্তপাত শুরু হয়৷ সেই মুহূর্তে বিকল্প ওষুধের প্রয়োজন হয় ৷ তবে চিকিৎসা না করা হলে বছর কয়েক এর মধ্যে অধিকাংশ কালাজ্বরের রোগী মারা যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

কালা জ্বরের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করনীয়: 

কালা জ্বরের চিকিৎসা এর পাশাপাশি আমাদের এটি প্রতিরোধের জন্যও সতর্ক থাকতে হবে।

১। উপদ্রুত এলাকা চিহ্নিত করে রোগী খুঁজে বের করতে হবে এবং তার চিকিৎসার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ; 

২। রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের বাহক স্যান্ড ফ্লাই (বালু মাছি)  নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে ; 

৩। বালুমাছি মারার জন্য, কীটনাশক ঔষধ যেমন- ডিডিটি ছিটিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে ; 

৪। দ্রুততার সাথে বাড়ির আশেপাশের ঝোপঝাড় এবং নোংরা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। আর একটা কথা, যেহেতু গোয়ালঘরেই বালুমাছির প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে তাই অবশ্যই গোয়ালঘর নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। যেখানে সেখানে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে ; 

৫। বালুমাছির জন্ম ও বিশ্রামের জন্য অন্যতম একটি স্থান হল ইঁদুরের গর্ত । তাই অনতিবিলম্বে ইঁদুরের গর্ত ভরাট করে ফেলতে হবে ৷ পরিশেষে একটি নিরাশার কথা হল, এখনো এই রোগের কোনো প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাই আমাদের অবশ্যই সাবধান হতেই হবে।

অনলাইনে আমাদের অবিজ্ঞ দাক্তারদের থেকে পরামর্শ নেয়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন  এপয়েন্টমেন্ট

[videogallery id=”kala-azar-alo”]

[videogallery id=”kala-azar-homeo”]

[videogallery id=”kala-azar-harbal”]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *