চক্ষু রোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

চোখের চুলকানি সমস্যা ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য।

মূল কারণ :

পরিবেশদূষণ, ধুলাবালি ইত্যাদি কারণে স্বাভাবিক ভাবে চোখ চুলকানো বা চোখে জ্বালাপোড়া হওয়ার সমস্যা হতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে তাই ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উপযুক্ত চশমা ব্যবহার করতে পারেন।

 

চোখ চুলকায় কেন ? 

আপাতদৃষ্টিতে চোখ চুলকানোর সমস্যাকে খুব স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়।  কিন্তু ডাক্তারি মতে, চোখ চুলকানোকে রোগ বলে বিবেচনা করা হয় না।  এটি সাধারণত চোখের মধ্যে চলতে থাকা বিভিন্ন রকম অক্যুলার সারফেস রোগের উপসর্গ বিশেষ। সাধারণত চোখের যে যে সমস্যাগুলির কারণে চোখ চুলকায় তার মধ্যে অন্যতম হলঃ 
১। অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস
২। অ্যাটোপিক কনজাংটিভাইটিস
৩। ভার্নাল কেরাটো কনজাংটিভাইটিস
৪। মেইবোমিয়ান গ্ল্যান্ড ডিসফাংশন
৫। জায়েন্ট প্যাপিলারি কনজাংটিভাইটিস
৬। ড্রাই আই সিনড্রোম।
সুতরাং দীর্ঘদিন যাবত যদি চোখ চুলকানোর সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। 

 

কী করা অনুচিত এবং উচিতঃ  

১। চোখ চুলকালে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনও ধরনের আই ড্রপ ব্যবহার করবেন না।

২। পরিচিত কারও যদি চোখের কোনও সমস্যা থেকে থাকে তাহলে ডাক্তারের সুপারিশ করা স্টেরয়েড গোত্রীয় আই ড্রপ অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজের ক্ষেত্রে পুনরায় ব্যবহার করা একেবারে নিষেধ। 

৩। যদি কোনো রকম অস্বস্তি বোধ হয় তাহলে সরাসরি চোখে জলের ঝাপটা দেয়া যাবে না।
৪। আপনাকে যদি একনাগাড়ে অনেকক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করতে হয় সেক্ষেত্রে আধ ঘণ্টা অন্তর বিরতি নিয়ে নিয়ে কাজ করা উচিত। 

 

 

চোখ চুলকানোর চিকিৎসাঃ 

১। শুরুর দিকে চোখ চুলকানো বন্ধ করার জন্য অ্যান্টি অ্যালার্জিক বা লুব্রিকেটিক আইড্রপ দেওয়া হয়ে থাকে। 

২। আবার অন্য দিকে ক্রণিক অ্যালার্জিক রোগীদের ক্ষেত্রে ইমিউনো মডিউলেটর আইড্রপ দেওয়া হয়।  যা সাধারণত স্টেরয়েড আইড্রপের মতো কাজ করে কিন্তু কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। 

৩। নির্দিষ্ট যে রোগের জন্য মূলত চোখ চুলকানোর সমস্যাটি হচ্ছে তা নির্ধারণ করার জন্য প্রয়োজনীয় টেস্ট সমূহ করা হয়।

 

প্রাথমিক চিকিৎসাঃ

এ ধরনের সমস্যা এড়িয়ে চলার জন্য চোখে বড় কাচের ফটোসান চশমা ব্যবহার করতে হবে।

১। ধুলো ও বাতাসের ঝাপটা এড়িয়ে চলতে হবে।

২। এলার্জি হয় এমন খাদ্য এড়িয়ে চলতে হবে।

৩। চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ব্যতিত ড্রপ দেয়া যাবে না।

 

ঔষধঃ 

১) এন্টিহিস্টামিন। ক) স্বল্প থেকে মধ্যম মাত্রার সমস্যার জন্য

জেনেরিক: ক্লোরফেনিরামিন মেলিয়েট (ন্দ্রিাকারক)। ব্রান্ড: পিরিটন ডোজ:

। প্রাপ্ত বয়স্ক: ৪ মিগ্রা ট্যাবলেট দিনে ৩ বার। । শিশু-৬ মাস থেকে ১ বছর: আধা চামচ (২.৫ মিলি/১ মিগ্রা) দিনে

২ বার। শিশু-১-৫ বছর সিরাপ- আধা চামচ (২.৫ মিলি/১ মিগ্রা) দিনে তিন বার।

শিশু ৫-৮ বছর: ২ মিগ্রা দিনে তিন বার | শিশু-৯ থেকে ১১ বছর: ৪ মিগ্রা দিনে ২-৩ বার।

গ) তীব্র মাত্রার ক্ষেত্রে

। জেনেরিক: ফেক্সোফেনাডিন (fexofenadin)

ডাঃ আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম

৮৫৩

মেডিসাইন্স পাবলিকেশন্স

চক্ষু রোগ

ব্রান্ড: ফেনাডিন (fenadin), প্রস্তুতকারক: রেনাটা ডোজ:

। প্রাপ্ত বয়স্ক (১২ বছরের উৰ্দে): ৬০-১৮০ মিগ্রা দৈনিক।

শিশু- ৬ মাস থেকে ২ বছর : ১৫ মিগ্রা দিনে ২ বার। শিশু- ২ বছর থেকে ১১ বছর : ৩০ মিগ্রা দিনে ১-২ বার।

রোগীকে অবশ্যই একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

[videogallery id=”itchy-eyes-alo”]

[videogallery id=”itchy-eyes-harbal”]

 

চোখ চুলকানোর ঘরোয়া সমাধান

চোখ চুলকানোর সমস্যার ঘরোয়া কিছু সহজ সমাধান আলোচনা করা হলঃ 

১। শসাঃ শসাতে আছে অ্যান্টি-ইরিটেশন প্রোপার্টিজ। এটি সাধারণত জ্বালা-পোড়া, ফোলাভাব, চুলকানো ইত্যাদি সমস্যায় অত্যন্ত কার্যকারী ভূমিকা পালন করে থাকে। চোখে চুলকানোর সময় একটি শসা ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে, পাতলা টুকরা করে কেটে নিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন। তারপর এটি ঠাণ্ডা হওয়ার পর ১০ মিনিট দু’চোখের উপর দিয়ে রাখুন। দিনে কমপক্ষে পাঁচবার এইভাবে শসা ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে।

২। ঠাণ্ডা দুধঃ ঠাণ্ডা দুধের মধ্যে এক টুকরো পরিষ্কার তুলা ভিজিয়ে নিয়ে চোখের চারপাশে আলতো করে ঘষে দিতে হবে। অথবা ভেজা তুলাটি চোখের উপর দিয়ে রাখতে পারেন । এতে চোখ ঠাণ্ডা হয় এবং চোখ চুলকানো কমবে।

৩। গোলাপজলঃ চোখের সমস্যায় দারুণ একটি ঘরোয়া সমাধান হিসাবে অনেক বছর ধরে বিশুদ্ধ গোলাপ জল ব্যবহার হয়ে আসছে। চোখ পরিষ্কারের জন্য গোলাপজল অনেক উপকারী। দিনে কমপক্ষে দুবার গোলপজল দিয়ে চোখ পরিষ্কার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। 

অন্যথায় তাৎক্ষণিক উপকার এর জন্য ড্রপ হিসেবেও চোখে গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন।  যে চোখে সমস্যা বুঝবেন সেই চোখে তিন ফোঁটা গোলাপজল দিন। 

৪। লবণ পানিঃ লবণ পানি চোখের চুলকানোভাব কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। লবণ পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করলে চোখে জমে থাকা যে কোনো রকমের ক্ষতিকর উপাদান পরিষ্কার হয়। তাছাড়া লবণে থাকা অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান যেকোনো ধরণের জীবাণু ধ্বংস করে থাকে। 

এক কাপ পরিমান বিশুদ্ধ পানির সাথে এক চা-চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। তারপর সেটাকে অল্প সময় গরম করে নিন।  উদ্দেশ্য হল লবণ ভালোভাবে মিশে যাওয়া। তারপর কিছুক্ষন পর মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হলে চোখ ধোয়ার জন্য ব্যবহার করতে হবে। দিনে একাধিকবার ব্যবহার করতে পারেন। 

৫। গ্রিন টিঃ স্বাস্থ্য এবং ত্বক উভয়ের জন্যই দারুণ উপকারী জিনিস এটি । চোখের সমস্যা দূর করার জন্য গ্রিন টি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *