Uncategorized @bn, রক্ত ও হৃদরোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

হার্ট সাউন্ড বা হৃদ ধ্বনি ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য।

হার্ট সাউন্ড বা হৃদ ধ্বনি

হার্ট সাউন্ড (heart sourd) হলো শ্রুতি যোগ্য ধ্বনি যা কার্ডিয়াক সাইকেলের সময় স্বাভাবিক ভাবে উৎপন্ন হয়। হার্ট সাউন্ড নিম্নলিখিত ভাবে সনাক্ত করা যায় ক্লিনিক্যাল স্টেথোস্কোপ, হেমো-কার্ডিওগ্রাফি, ফনোকার্ডিওগ্রাফি- র মাধ্যমে সনাক্ত করা যায়। চারটি হার্ট সাউন্ড রয়েছে।

১. ফার্স্ট হার্ট সাউন্ড – ভেন্ট্রিকুলার সিস্টোল গুরুর সময় আকস্মিক ভাবে এ ভি ভাল্ব বন্ধ হয়ে এ ধ্বনির সৃষ্টি হয়। ইহা লাব।

২. সেকন্ড হার্ট সাউন্ড ভেন্ট্রিকুলার সিস্টোল শেষ হবার ঠিক পরেই আকস্মিক ভাবে সেমি লুনার ভাল্ব বন্ধ হয়ে এ ধ্বনির সৃষ্টি হয়। ইহা ডাব।

৩, থার্ড হার্ট সাউন্ড -ভেন্ট্রিকল প্রসারনের প্রথম দ্রুত পূর্ণ পর্যায়ে রক্ত এট্রিয়াম থেকে ভেন্ট্রিকলে দ্রুত প্রবেশ করে ফলে এই ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

৪. ফোর্থ হার্ট সাউন্ড ভেন্ট্রিকল প্রসারনের শেষ পর্যায়ে রক্ত এট্রিয়াম থেকে ভেন্ট্রিকলে দ্রুত প্রবেশ করে ফলে এই ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

 

মারমার (murmur)

মারমার বা ব্রুইট এক ধরনের অস্বাভাবিক হার্ট সাউন্ড যা সারকুলেশন এর বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রুতিযোগ্য। হার্টের ভাল্ব স্টেনোসিস বা রিগার্জিটেশনে হার্টে এই ধ্বনি শোনা যায়।

 

এপেক্স বিট (apex bit)

হৃদপিন্ডের বাম নিলয়ের স্পন্দনের বহিঃপ্রকাশ যা অনুভুত যোগ্য ও কখনো দৃশ্যমান। অবস্থান- বামদিকের ৫ম আন্ত কোস্টাল স্থানে। মধ্য রেখা থেকে ৯ সেমি পার্শ্ববর্তী।

 

হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন হার 

প্রতি মিনিটে হৃদপিন্ডের স্পন্দনের হার কে হার্ট রেট (heart rate) বা হৃদস্পন্দন। হার বলে। স্বাভাবিক মান- ৬০- ৯০, গড় – ৭২।

বিভিন্ন শারীরবৃত্তিয় ও রোগাক্রান্ত অবস্থায় হার্ট রেট পরিবর্তিত হতে পারে। উত্তেজনা, ক্রোধ, বেশির ভাগ বেদনা অনুভুতি, হাইপোক্সিয়া, ব্যয়াম, জ্বর, ইত্যাদি কারনে এটি বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবার দুঃখ অনুভুতি, ব্রেইনে চাপ বেড়ে যাওয়া, হার্টের কল্ডাক্টিং সিস্টেমের সমস্যা, ইত্যাদি কারনে এটি হ্রাস পেতে পারে।

 

ট্রাকিকার্ডিয়া (tachycardia)

এর অর্থ দ্রুত হৃদ স্পন্দন। স্বাভাবিকের চেয়ে হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে তাকে ট্রাকিকার্ডিয়া বলে। সাধারনত হৃদ স্পন্দন ১০০ স্পন্দন/ মিনিট -এর বেশি হলে একে ট্রাকিকার্ডিয়া বলে।।

 

ব্রাডিকার্ডিয়া (bradycardia)

ব্রাডিকার্ডিয়া অর্থ ধীর গতির হৃদস্পন্দন। স্বাভাবিকের চেয়ে হৃদস্পন্দন কমে গেলে, তাকে ব্রাডিকার্ডিয়া বলে। সাধারনত হৃদ স্পন্দন ৬০ স্পন্দন/ মিনিট -এর কম হলে একে ট্রাকিকার্ডিয়া বলে।

 

পালস বা নাড়ী

পালস (puls) বা নাড়ী হলো হৃদপিন্ডের সবিরাম রক্ত নিস্কাশনের ফলে সৃষ্ট ধমনীর দেয়ালের ছন্দাকার প্রসারন ও সম্প্রসারন যা তরঙ্গাকারে দেহের দেহের প্রান্তস্থ অংশে। সঞ্চারিত হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে পালস হার্টরেটকে নির্দেশ করে। স্বাভাবিক হার- ৬০-৯০ মিনিট, গড়ে-

 

পালস্ অনুভব করার স্থান।

আর্টারী সৃষ্ট :

সুপারফিসিয়াল টেমপোরাল

ক্যারোটিড আর্টারী

ফ্যাসিয়াল আর্টারী

রেডিয়াল আর্টারী

ব্রাকিয়াল আর্টারী

এক্সিলারী আর্টারী

ফিমোরাল আর্টারী

পপলিটিয়াল আর্টারী ।

পোস্টেরিয়র টিবিয়াল আর্টারী

আর্টারিয়া ডরসালিস পেডিস।

ভেইন সৃষ্ট: জ্বগুলার ভেইন

 

 

কার্ডিয়াক আউটপুট বা হৃদ নিস্কাশন

প্রতিটি ভেন্ট্রিল দ্বারা প্রতি মিনিটে যে পরিমান রক্ত নিস্কাশিত হয় তাকে কার্ডিয়াক আউটপুট (cardiac output) বলে। কার্ডিয়াক আউটপুট প্রায় প্রতি মিনিটে প্রায় ৫ লিটার।

 

কিছু শারীরবৃত্তিয় অবস্থা ও রোগাক্রান্ত অবস্থায় কার্ডিয়াক আউটপুট হ্রাস ও বৃদ্ধি পেতে পারে। ব্যয়াম, স্থূলতা, আবেগ, দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া, এনিমিয়া ইত্যাদি কারনে বৃদ্ধি পায়। আবার হার্ট ফেইলুর, শক, গর্ভধারন ইত্যাদি কারনে হ্রাস পেতে পারে।

ব্লাড প্রেসার রক্ত চাপ প্রবাহমান অবস্থায় রক্ত তার সঞ্চালন নালীতে যে পার্শ্ব চাপ দেয় তাকে ব্লাড প্রেসার (blood pressure) বা রক্ত চাপ বলে। স্বাভাবিক মাত্রা – গড়ে

১. সিস্টোলিক – ১২০ মিমি পারদ চাপ

২. ডায়াস্টোলিক- ৮০ মিমি পারদ চাপ

(সংক্ষেপে ১২০/৮০ মিমি পারদ চাপ )

 

সাধারণভাবে ব্লাড প্রেসারকে দুইভাবে প্রকাশ করা হয়। 

১. সিস্টোলিক (systolicy ব্লাড প্রেসার : হৃদপিন্ড সংকোচনকালীন (সিস্টোল) সর্বোচ্চ চাপ। এটি হৃদপিন্ডের কাজের পরিধি নির্দেশ করে। উত্তেজনা, ব্যয়াম , খাদ্যগ্রহণ ইত্যাদি সময়ে বৃদ্ধি পায়। ঘুম, বিশ্রাম ইত্যাদি সময়ে কমে যায়। স্বাভাবিক মান আনুমানিক ১০০-১৪০ মিমি পারদ চাপ। গড়ে ১২০ মিমি পারদ চাপ।

২. ডায়াস্টোলিক (diastolic) প্রেশার : হৃদপিন্ড প্রসারনকালীন (ডায়াস্টোল)। সবনিম্ন চাপ। ডায়াস্টোলিক বেড়ে গেলে হৃদপিন্ডের কাজের অক্ষমত কে (হার্ট ফেইলুর) নির্দেশ করে। স্বাভাবিক মান আনুমানিক ৬০-৯০ মিমি পারদ চাপ। গড়ে ৮০ মিমি পারদ চাপ।।

 

বিভিন্ন শারীরবৃত্তিয় কারন ও রোগাক্রান্ত অবস্থায় ব্লাড প্রেসার হ্রাস ও বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

ব্যয়াম, খাদ্য গ্রহন, আবেগ, কিডনী রোগ, থায়রয়েড হরমোন সমস্যা, রক্তনালীতে চর্বি জমে যাওয়া ইত্যাদি কারনে ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধি পেতে পারে। মানবদেহে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে কিডনী একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

 

রক্ত চাপ পরিমাপ

অস্কালটেটরি পদ্ধতি বা শ্রবণ পদ্ধতিতে স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্র ব্যবহার করে। এটি করা হয়ে থাকে।

 

ইসিজি বা ইলেক্ট্রকার্ডিওগ্রাম

হৃদচক্রের সময় হৃদপিন্ডের মধ্যে বৈদ্যুতিক আধানের যে পরিবর্তন হয় ; দেহ পৃষ্ঠ হতে তা লিপিবদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে ইসিজি (ECG) বা ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম। (Electrocardiogram) বলে। এর মাধ্যমে হার্ট-এর বিভিন্ন রোগ সনাক্ত করা সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *