জ্বর ও সংক্রামক রোগ

কলেরা রোগের চিকিৎসা ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য।

কলেরা রোগের চিকিৎসা

কলেরা

কলেরা (cholera) হলো একটি মারাত্মক তরুন গ্যাস্ট্রোইন্টেসটাইনাল ইনফেকশন ও ডায়রিয়াল ডিজিজ যা ভিব্রিও কলেরা নামক ব্যকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। কলেরা রোগের চিকিৎসা এবং সমস্ত কিছু নিচে আলোচনা করা হল।

কলেরা রোগের চিকিৎসা ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য

কলেরার লক্ষণ

১. হঠাৎ করে বমি ও তার সাথে মারাত্মক ডায়রিয়া। পেটে কোন ব্যথা থাকে না।

২. চাল ধোয়া পানির মত মল।

৩. দিনে ১০ বারের বেশি এমনকি ৪০ বারের বেশীও মলত্যাগ হতে পারে।

৪. মধ্যম ও মারাত্মক ডিহাইড্রেশন এর উপস্থাপনা।

৫. মাংসপেশীতে খিল ধরতে পারে।

৬. ত্বক শীতল, ঘর্মাক্ত ও কুঁচকে যায়।

৭. রক্তচাপ কমে যায়, পালস সহজে অনুভব করা যায় না এবং প্রস্রাবের পরিমান কমে যায়।

কলেরার প্রাথমিক চিকিৎসাঃ

সাধারণ ব্যবস্থাপনা।

১. বিছানায় বিশ্রাম।

২. ডিহাইড্রেশন দূরীকরণ।

ওআরএস দ্বারা: গ্লুকোজ স্যালাইন দ্বারা, রাইস স্যালাইন দ্বারা (রাইস স্যালাইন সর্বোত্তম)।

ইন্ট্রাভেনাস ফুইড (কলেরা স্যালাইন)

৩. খাদ্য: সাধারণত প্রথম অবস্থায় তরল খাবার এরপর বার বার অর্ধতরল খাবার।

কলেরা রোগের চিকিৎসা তে ব্যবহৃত ঔষধ

১) এন্টিবায়োটিক:  জেনেরিক: এজিথ্রোমাইসিন (azithromycin)

ব্র্যান্ড : জিথ্রিন (zithrin) প্রস্তুকারক: রেনাটা। ডোজ:

প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে : প্রথম বার ১০০০ মিগ্রা একক মাত্রায় এরপর দৈনিক

৫০০ মিগ্রা একক মাত্রা হিসেবে ৩ থেকে ৬ দিন।

শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ মিগ্রা/কেজি হিসেবে

বয়স ৩-৬ মাস বয়স পর্যন্ত সিরাপ: 

প্রথম বার আধা চামচ একক মাত্রায় এরপর।

একচামচের চারভাগের একভাগ দিনে একবার ৩-৬ দিন। ৬ মাস থেকে ১ বছর | প্রথম বার এক চামচের তিনভাগের দুইভাগ একক বয়স পর্যন্ত।

মাত্রায় এরপর একচামচের তিনভাগের একভাগ ৩

৬ দিন।। ১ বছর থেকে ২ বছর। প্রথম বার এক চামচ একক মাত্রায় এরপর আধা চামচ দিনে একবার ৩-৬ দিন। ২ বছর থেকে ৫ বছর। প্রথম বার দুই চামচ একক মাত্রায় এরপর এক

চামচ দিনে একবার ৩-৬ দিন। ৫-১২ বছর।

প্রথমবার ৫০০ মিগ্রা একক মাত্রায় এরপর ২৫০ মিগ্রা ট্যাবলেট অথবা ১.২৫ চামচ সিরাপ দিনে এক বার, ৩-৬ দিন ।

২) এন্টিইমেটিকস: জেনেরিক: অনডাট্রেন (ondansetron) ব্রান্ড- অনসেট (onsat) ; প্রস্ততকারক: বেক্সিমকো

ডোজঃ

প্রাপ্ত বয়স্ক: ৮ মিগ্রা ট্যাবলেট ১ টি করে দিনে ৩ বার।

শিশু (৪-১১ বছর) : ৪ মিগ্রা ট্যাবলেট ১ টি করে দিনে তিন বার।

শিশু (২-৪ বছর) : সিরাপ আধাচামচ দিনে তিন বার।

৩) এন্টিডায়রিয়াল ড্রাগ

জেনেরিক: রেসিকাডোট্রিল (resecadotril) হয়।

ব্রান্ড-রেসিকা (Receca); প্রস্তুতকারক: নিপ্রো-জেএমআই ডোজ: প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে- ১ ক্যাপসুল দিনে তিন বার।

৪) জিংক সাপ্লিমেন্ট: পাঁচ বছরের কম বয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে।

জেনেরিক: জিংক সালফেট; (Zinc Sulphate) ব্র্যান্ড- সিরাপ – ম্যাজিক (Mazic) ; প্রস্তুতকারক রেনাটা)

ডোজ:

৬ মাসের কম বয়স: আধা চামচ দিনে ২ বার ।

৬ মাস-৫ বছর: এক চামচ (১০ মিগ্রা) দিনে দুই বার।

রোগীকে কখন হাসপাতালে রেফার করতে হবে?  

১। শিশুদের ক্ষেত্রে দিনে ১০ বারের বেশি মলত্যাগ।

২। প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে ২০ বারের বেশি মলত্যাগ।

৩। মারাত্মক ডিহাইড্রেশন দেখা দিলে।

৪। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে।

৫। রোগীর জ্ঞান লোপ হলে।

৬। বমি ও পাতলা পায়খানা একসাথে থাকলে।

কলেরা রোগের চিকিৎসা নেয়ার জন্য হাসাপাতালে প্রেরণের সময় করণীয়-

ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে প্রেরণের পূর্বে একটি কলেরা স্যালাইন ইনফিউশন করতে হবে ৩০ ফোটা/মিনিট হারে। কলেরা স্যালাইন না পাওয়া গেলে নরমাল স্যালাইন ইনফিউশন করা যেতে পারে। এছাড়া আপনি অবিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার জন্য আমাদের HD Health এ যোগাযোগ করতে পারেন।

[videogallery id=”cholera_alo”]

[videogallery id=”cholera_homeo”]

[videogallery id=”cholera-harbal”]

কলেরা এড়ানোর জন্য ঘরোয়া প্রতিকার:

এই নিয়মগুলি অনুসরণ করুন এবং কলেরা এড়িয়ে চলুন। বাড়িতে যেভাবে কলেরা রোগের চিকিৎসা নিবেনঃ

১। আদা কুচি করে এর সাথে মধু নিয়ে একসাথে পিষে নিন। এটি দিনে ২ বার করে খান এতে উপকৃত হবে।

২। আধা গ্লাস জলের মধ্যে লেবুর রস চেপে নিন এবং সাথে একটু লবন দিন।  কলেরার রোগী দিনে কয়েকবার এটি সেবন করবে।  

৩। একগুচ্ছ হলুদ জলে ভিজিয়ে রেখে তারপর রোদে শুকাতে হবে।  তারপর এটি গুঁড়ো করে নিতে হবে। সেই হলুদ ও  মধু এক কাপ গরম জলের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন।

৪। কলেরার রোগীকে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন খাবার দিতে হবে এবং ফুটন্ত জল পান করাতে হবে। 

৫। বাড়িতে ওআরএস সমাধান প্রস্তুত করতে পারেন। এই প্রক্রিয়াটি হল,  চার কাপ জলে এক চা চামচ চিনি এবং আধা চা-চামচ লবণ মিশ্রিত করতে হবে। এই সমাধানটি দিনে কয়েকবার কলেরা রোগীকে পান করাতে হবে । 

৬। কলেরা রোগীদের জন্যও তিতির উপকারী।

৭। লবঙ্গ জলে সিদ্ধ করে নিয়ে রোগীকে দিনে কয়েকবার পান করতে দিন।

নিজে যত্ন নেবার পরামর্শ:

১। খাবার গ্রহণের পূর্বে ভালো করে হাত ধুতে হবে।

২। বাইরে গেলে অবশ্যই হাত ধোয়ার জন্য স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। 

৩। ফোটানো জল, গরম এবং ভালো করে রান্না করা খাবার খাওয়ার গ্রহন করতে হবে। 

৪। কাঁচা খাবার, বিশেষ করে আধকাঁচা মাংস ও মাছ কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। 

৫। দুগ্ধজাত পণ্য ভালো করে দেখে নিতে হবে।  কারন তা দূষিত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *