পুরুষ প্রজনন রোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

পুরুষ প্রজাতন্ত্রের রোগ লক্ষণ ও সকল পদ্ধতির ডাক্তারদের বক্তব্য।

পুরুষ প্রজাতন্ত্রের রোগ লক্ষণ

পুরুষ প্রজাতন্ত্রের রোগ লক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা

পুরুষ প্রজনন তন্ত্রের রোগ বলতে পুরুষ প্রজনন তন্ত্রের যে কোন অংশের রোগকে বোঝায়।

পুরুষ প্রজনন তন্ত্রের রোগের ক্ষেত্রে মুরোগ বিশেষজ্ঞ (ইউরোলজিস্ট) অপ্রাপ্তিতে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অধিক ফলপ্রসূ।

 

 

 

 

পুরুষ সজল লতম্বের রোগের সাধারণ কারণ

জীবাণু ঘটিত ইনফেকশন; প্রধাণত যৌনরোগের জীবাণুসমূহ।

আঘাত

ঔষধ; যেমন-স্টেরয়েড, যৌনউত্তেজনা সৃষ্টিকারী ঔষধ ইত্যাদি।

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস মেলাইটাস।

অপুষ্টি

স্থুলতা

মানসিক সমস্যা

 

প্রতিরোধে

নিরাপদ যৌন জীবন অতিবাহিত করা (যৌন রোগ প্রতিরোধে)।

প্রজনন অঙ্গে আঘাত প্রাপ্তি হলে দ্রুত চিকিৎসা করানো।

এমবিবিএস ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ব্যতিত স্টেরয়েড ঔষধ সেবন না করা।

এব,বি,এস, ( বা সমমানের; হোমিওপ্যাথির ক্ষেত্রে বি.এইচ.এম.এস, এবং ইউনানী-আয়ুবের্দীর ক্ষেত্রে বি.ইউ.এম.এস/বি.এ.এম.এস ) করে পরামর্শ ব্যতিত যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ঔষধ সেবন না করা।

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।

প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাদ্য (যেমন-শাকসজি খাওয়া) এবং অপুষ্টি দূর করা।

ই তা থাকলে তা দূর করা।

প্রতিদিন হালকা ব্যয়াম করা।

মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকা।

যে কোন ধরণের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।

 

পুরুষ প্রজনন তন্ত্রের লক্ষণ

অন্ডথলি ফুলে যাওয়া।

অন্ডথলির অভ্যন্তরে বেদনা অনুভব।

অমুসলিম পুরুষের পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ ফুলে যাওয়া।

তলপেটে বেদনা।

প্রস্রাবে সমস্যা ।

স্বপ্নদোষ।

প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে তরল বের হওয়া।

লিঙ্গের আকার সংক্রান্ত সমস্যা।

যৌনক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা ইত্যাদি

 

অণ্ডথলি ফুলে যাওয়া

বিভিন্ন কারনে অন্ডথলি ফুলে যেতে পারে। যেমন- হার্নিয়া (অন্ডথলির ভেতর অন্ত্র ঢুকে যাওয়া), হাইড্রোসিল (অন্ডকোষের অভ্যন্তরে তরল পদার্থ জমে যাওয়া) অন্ডকোষের টিউমার ইত্যাদি। অন্ডথলি ফুলে গেলে বেদনা থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। তবে বেদনা থাকা মারাত্নক কোন সমস্যাকে নির্দেশ করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অন্ডথলি ফুলে যাওয়া প্রায়ই দেখা যায়।

অন্ডথলি ফুলে গেলে রোগীকে যদ্রুত সম্ভব একজন এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

 

অণ্ডথলির অভ্যন্তরে বেদনা অনুভব

বিভিন্ন কারনে এই সমস্যাটি হতে পারে। যেমন- আঘাত, হার্নিয়া ( অন্ডথলির ভেতর অন্ত্র ঢুকে যাওয়া ), হাইড্রোসিল (অন্ডকোষের অভ্যন্তরে তরল পদার্থ জমে। যাওয়া ), অন্ডকোষের টিউমার ইত্যাদি । কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্ডথলির অভ্যন্তরে বেদনা, হওয়া মারাত্বক কোন সমস্যাকে নির্দেশ করতে পারে।

 

প্রাথমিক চিকিৎসা

সাধারণ ব্যবস্থাপনা

বিশ্রাম: বেদনাহ্রাস না পাওয়া পর্যন্ত

 

ঔষধ

১) এন্টি স্পাজমোডিক

জেনেরিক: টাইমোনিয়াম মিথাইল সালফেট (tiemonium methyle sulphate); ব্রান্ড-এলজিন-০ (algin-50) প্রস্তুতকারক: রেনাটা ডোজ: প্রাপ্ত বয়স্ক; ১ ট্যাবলেট দিনে তিন বার।

২) উচ্চ ক্রিয়াশীল এনালজেসিক: তীব্র বেদনার ক্ষেত্রে

= জেনেরিক: ন্যাপ্রোপ্রোক্সেন+ ইসোমেপ্রাজল; (Naproxen + Esomeprazol) |

ব্রান্ড-ডিনোভো-৫০০/০ (Dinovo-500/20), প্রস্তুতকারক-বেক্সিমকো । ডোজ: প্রাপ্ত বয়স্ক (১২+): ১ ট্যাবলেট সকালে ও রাতে খাবার ২০ মিনিট পূর্বে।

 

অন্ডথলিতে বেদনা অনুভব হলে রোগীকে যদ্রুত সম্ভব একজন এমবিবিএস মানের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। হার্নিয়া ও আঘাত জনিত কারনে হলে বিলম্ব না করে হাসপাতালে পাঠাতে হবে।

 

অমুসলিম পুরুষের পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ ফুলে যাওয়া।

পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগে একটি চামড়ার পর্দা থাকে যা পুরুষাঙ্গের মুভুকে আবৃত করে। রাখে। মুসলিম ও ইহুদিগন ছোটবেলায় এই অতিরিক্ত পর্দা কেটে ফেলে দেন। এই প্রক্রিয়ার নাম খত্না। তবে অন্যান্য ধর্মের পুরুষদের এটি থেকে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই পর্দার অভ্যন্তরে তরল পদার্থ সঞ্চিত হয়ে ফুলে যায়, যা ফাইমোসিস ও প্যারাফাইমোসিস নামক দুটি রোগাবস্থার লক্ষণ। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। মুসলিম শিশু যাদের খৎনা হয়নি তাদেরও এই সমস্যা হতে পারে। অনেকেই বিষয়টিকে অবহেলা করেন। এর ফলশ্রুতিতে মারাত্নক সমসা হতে পারে। এটি একটি মেডিকের ইমারজেন্সি। তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলেই রোগীকে হাসপাতালে প্রেরণ করতে হবে।

 

তলপেটে বেদনা

সাধারণত প্রস্টেট জণিত সমস্যা ও আভ্যন্তরিন প্রজনন অংগ জণিত সমস্যায় তলপেটে বেদনা অনুভব হতে পারে। এ ছাড়াও পেটে বেদনার আরও কারন রয়েছে যা ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।

 

প্রস্রাবে সমস্যা 

পুরষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সমস্যা বলতে প্রস্রাব ধীর গতিতে বের হওয়া, প্রস্রাব একাধিক ধারায় প্রবাহিত হওয়া, প্রস্রাবের জন্য চাপ দিলে প্রবাহ হ্রাস পাওয়া, চাপ না দিলে মূত্রথলি খালি না হওয়া, সন্তোষজনক না হওয়া, প্রস্রাবের পর ফোটায় ফোটায় পড়া ইত্যাদিকে বোঝানো হয়। মূলত ইউরেথ্রা, প্রোপ্রোস্টেট গ্ল্যান্ড ও ইউরিনারী ব্লাডারের। কারণে এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। উপরোক্ত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নিকট পেরণ করতে হবে।

 

স্বপ্নদোষ 

এটি মূলত কোন সমস্যা নয়। তবে আমাদের দেশে কিশোর বয়সের বেশিরভাগ পুরুষই এটাকে সমস্যা মনে করেন। ক্যানভাসার (যারা বক্তৃতা দিয়ে কবিরাজী ঔষধ বিক্রয় করে) ও কিছু অসাধু হার্বাল/হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (যাদের যোগ্যতা ডিপ্লোমা কিংবা কোন সনদ নেই) কিংবা গ্রামের সাধারণ মানুষের কর্তৃক প্রচারিত ভুল তথ্য জানার ফলেই পুরুষরা একে মারাত্নক সমস্যা মনে করে। পুরুষের শুক্রানু সঞ্চয়ের স্থান পূর্ণ হয়ে গেলে তা রাতে ঘুমের মাঝে এমনি এমনি কিংবা স্বপ্নে যৌণ ক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট উত্তেজনা দ্বারা বির্যপাতের মাধ্যমে তা বের হয়ে যায়। ব্যপারটা এমন যে ভরা কলসি খালি হওয়া। এটা কোন সমস্যা নয়। বিবাহিতদেরও যৌণক্রিয়ার সময় বির্যপাত হয় এবং স্বপ্নদোষেও বির্যপাত হয়। পার্থক্য কতটুকু? তবে ঘন ঘন ‘বপ্নদোষ হওয়া আচরণজণিত সমস্যা কিংবা মানসিক সমস্যা। তবে এক সময় এটিও আপনা আপনিই ঠিক হয়ে যেতে পারে।

বেশি সমস্যা মনে হলে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

 

প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে তরল বের হওয়া 

এটিও পুরুষদের একটি সাধারণ অভিযোগ; প্রধানত কিশোর বয়সের । এটিও কোন সমস্যা নয়। তবুও একে এসমস্যা মনে করার কারন ক্যানভাসার (যারা বক্তৃতা দিয়ে কবিরাজী ঔষধ বিক্রয় করে) ও কিছু অসাধু হার্বাল/হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (যাদের যোগ্যতা ডিপ্লোমা কিংবা কোন সনদ নেই) কিংবা গ্রামের সাধারণ মানুষের কর্তৃক প্রচারিত ভুল তথ্য। কোন কারনে যৌণউত্তেজনা লাভ করলে (যৌণ চিন্তা, মেয়েদের সাথে উঠাবসা করা, কথা বলা ইত্যাদি) বাল্লোইউরেথ্রাল গ্ল্যান্ড হতে এই তরল পদার্থ নিঃসরিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি সাদা বর্ণের তরল হতে পারে যা প্রস্রাবের আগে বা মলত্যাগের পূর্বে নির্গত হতে পারে। এটি মূলত প্রাস্টেট গ্ল্যান্ডের নিঃসরণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটিও কোন সমস্যা নয়।

 

তবে তরলের বর্ণ যদি পুঁজের মত হলুদাভ/সবুজাভ/সাদা ও গাঢ় হয় এবং সকালে প্রস্রাবের পূর্বে হয় তবে তা মারাত্মক রোগকে (গনোরিয়া) নির্দেশ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিলম্ব না করে একজন চর্ম যৌন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

 

প্রয়োজনে ইউরোলজিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলতে হবে।

 

লিঙ্গের আকার সংক্রান্ত সমস্যা

চিকিৎসা স্বাস্ত্রের ভাষায় লিঙ্গ উত্থিত অবস্থায় ৩-৫ ইঞ্চি হলেই তা স্বাভাবিক বলা হয়। লিঙ্গের বেড় তার উচ্চতার সাথে সম্পর্কিত।

 

লিঙ্গের আকার ছোট- এ সমস্যার কথা অনেক পুরুষ বলে থাকেন। আবার বলা হয় লিঙ্গ কম মোটা, আগা মোটা গোড়া চিকন। এটি কোন সমস্যা নয়। তবুও একে সমস্যা মনে করার কারণ ক্যানভাসার (যারা বক্তৃতা দিয়ে কবিরাজী ঔষধ বিক্রয় করে) ও কিছু অসাধু হার্বাল/হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (যাদের যোগ্যতা ডিপ্লোমা কিংবা কোন সনদ নেই) কিংবা গ্রামের সাধারণ মানুষের কর্তৃক প্রচারিত ভুল তথ্য। কম বয়সে (মূলত কিশোর বয়সে) পেনিস (পুরুষাঙ্গের) বৃদ্ধি ও বিকাশ পরিপূর্ণ নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এমন কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যেতে পারে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এটি আপনা আপনিই ঠিক হয়ে যায়। আবার কারো ক্ষেত্রে বিবাহিত হওয়ার পর ঠিক হয়ে যায়। এর জন্য কোন চিকিৎসা নেয়ার প্রয়োজন নেই।

 

তবে উত্থিত লিঙ্গ যদি বাঁকা হয় এবং উখিত হলে বেদনা অনুভূত হয় তবে তা কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা যোগ্য সমস্যা হিসেবে গন্য করা হয়।

 

বেশি সমস্যা মনে হলে ইউরোলজিস্ট -এর পরামর্শ নেয়ার কথা বলতে হবে।

 

যৌনক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা 

পুরুষদের যৌনক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা বলতে নিম্নলিখিত সমস্যাকে বোঝায়।

যৌনক্রিয়ায় অস্বস্তি, বেদনা: এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত একজন ইউরোলজিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যৌনাকাঙ্খা হ্রাস বা বৃদ্ধি: এ ধরণের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত একজন। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। ।

পুরুষাঙ্গ দৃঢ় না হওয়া: এ ব্যাপারটিকে ইরেকটাইল ডিজফাংকশন বলা হয়।

যৌনমিলনের সময় অতিদ্রুত বীর্যপাত হওয়া; এ ব্যপারটিকে প্রি ম্যাচিউর ইজাকুলেশন বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *